{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"border":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

প্রশাসক পদে আলোচনায় পাঁচ বিএনপি নেতা

প্রশাসক পদে আলোচনায় পাঁচ বিএনপি নেতা

সাখাওয়াত হাসান
রাজশাহী প্রতিনিধি

দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ছয়টিতে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সম্প্রতি এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর থেকেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক) কে হচ্ছেন প্রশাসক তা নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। প্রশাসক পদে নিয়োগের দৌড়ে রাজশাহীর অন্তত পাঁচ শীর্ষ বিএনপি নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। সেখানে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি উঠে আসছে তরুণদের নামও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত রবিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তারপর থেকেই রাসিকের সম্ভাব্য প্রশাসক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়। নেতাকর্মীরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে মত প্রকাশ করতে থাকেন।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং চালাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট। কেউ ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, কেউ আবার রাজশাহী থেকেই হাইকমান্ডের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত সংযোগ বজায় রাখছেন।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। কারণ তার রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেও ২০১৩ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে তৎকালীন সরকারের রোষানলে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। জেল-জুলুম, বরখাস্ত ও মামলার কারণে অনেক সময় নগরের বাইরে থাকতে হয় তাকে। ২০১৮ সালে তিনি পুনরায় দলীয় প্রার্থী হলেও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বুলবুল বলেন, ‘আমার এখানে কিছু বলার নেই। কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব দিলে অভিজ্ঞতার আলোকে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।

বুলবুলের পক্ষে মাঠে নেমেছেন তার সমর্থকরা। রাজশাহী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শফিকুল আলম সমাপ্ত বলেন, ‘বুলবুল ভাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও ১৬ মাস দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তার অভিজ্ঞতা ও বিগত দিনের বঞ্চনা বিবেচনায় তাকে প্রশাসক হিসেবে চাই।’

রাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম বলেন, যে শহরের উন্নয়ন করতে পারবে এবং ত্যাগী নেতা—এমন একজনকে দায়িত্বে দেখতে চাই। রাজশাহী শহরে বুলবুল ভাই ছাড়া সেই যোগ্য নেতা আর নেই।

অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান রিটনকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে শক্ত জনমত। ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দুঃসময়ে রাজশাহীর রাজপথ আগলে রেখেছিলেন। তরুণ নেতাকর্মীদের যুক্তি, নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় প্রয়োজন নতুন ও গতিশীল নেতৃত্ব। সাবেক মহানগর ছাত্রদল সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি বলেন, সারাদেশে এখন নতুন ও তরুণরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। সেই হিসেবে রিটন ভাই প্রশাসক হলে সবচেয়ে ভালো হবে। নতুন প্রজন্ম তাকে গ্রহণ করবে।

রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির বলেন, রিটন ভাই আন্দোলন-সংগ্রামের সম্মুখসারির নেতা। অসংখ্য মামলা ও কারাবরণ করেও সংগঠনকে সুসংগঠিত রেখেছেন। নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তার মতো নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে রিটন বলেন, আমি রাজশাহী মহানগরবাসীর সেবা করতে চাই। বিএনপির হাইকমান্ড আমাকে যোগ্য মনে করলে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেবে।

এছাড়া, প্রশাসক পদের জোড়ালো আলোচনায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদও। তিনি মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে আছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের প্রতি আমার আনুগত্য, ত্যাগ ও পরিশ্রম বিবেচনায় নীতিনির্ধারণী মহল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছি।

এদিকে, মহানগর বিএনপি সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত। তিনি রাজশাহী কলেজ ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে মহানগরবাসীর বিপুল ভোটে বুলবুল ভাই মেয়র নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। দল যদি তাকে সম্মানিত করে, সেটি যুক্তিযুক্ত হবে। তবে দল যদি আমাদের মতো তরুণদের নিয়ে ভাবতে চায়, তাহলেও দায়িত্ব পালনে আগ্রহী আছি।

অন্যদিকে, অপর সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। পরে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসক পদে দল ও রাজশাহী মহানগরীর মানুষ আমাকে চাইলে আমি দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Our Like Page