স্টেশন মাস্টার নেই, হারিয়ে যেতে বসেছে কাহালুর পাঁচ পীর মাজার রেল স্টেশন
এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়াঃ
বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাঁচ পীর মাজার রেল স্টেশনটি আজ অবহেলা ও অযত্নে হারিয়ে যেতে বসেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটিতে নেই কোনো স্টেশন মাস্টার। ফলে ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ এই রেল স্টেশনটি। একসময় ব্যস্ততম এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বহু ট্রেন চলাচল করত এবং যাত্রীদের যাতায়াতে ছিল ব্যাপক ব্যবহার। কিন্তু বর্তমানে ট্রেন চলাচল থাকলেও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে স্টেশনের অধিকাংশ কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন মাস্টার না থাকায় টিকিট বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে টিকিট ছাড়াই ট্রেনে ওঠানামা করছেন। এতে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। এছাড়া সিগন্যাল ব্যবস্থাপনায়ও দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। নির্দিষ্ট তদারকি না থাকায় মাঝে মাঝেই ট্রেন চলাচলে বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় পাঁচ পীর মাজার রেল স্টেশনটি ছিল এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করে বগুড়া, ঈশ্বরদী, লালমনিরহাট, রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতেন। কৃষিপণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত এই স্টেশনটি। কিন্তু বর্তমানে অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে এবং স্টেশনটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, স্টেশনটিতে কোনো নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় প্ল্যাটফর্ম, সিগন্যাল ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। এতে স্টেশনের ভবন ও আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় ট্রেন থামলেও যাত্রীদের ওঠানামার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে না, যা যাত্রীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই স্টেশনের অবনতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, একসময় এই স্টেশন ঘিরে ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছিল। স্টেশন কার্যক্রম কমে যাওয়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলে জানান। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই রেল স্টেশনটি।
স্থানীয়রা দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পিতৃভূমি বগুড়া হওয়ায় এই জেলার উন্নয়নে তার বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া উচিত। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী পাঁচ পীর মাজার রেল স্টেশনটি রক্ষায় তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, মাননীয় রেলমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে পাঁচ পীর মাজার রেল স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত স্টেশন মাস্টার নিয়োগ, টিকিট বিক্রয় চালু, সিগন্যাল ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্টেশনের অবকাঠামো সংস্কার করা জরুরি। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে পাঁচ পীর মাজার রেল স্টেশনটি। এতে যেমন যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে, তেমনি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঐতিহ্যবাহী এই স্টেশনটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় জনগণ।
(প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সোহেল রানা জয়)
(চেয়ারম্যান মোঃ কাজী রায়হান) (০১৬৭৯২৩৫৫৬৮)
(ব্যবস্থাপনা পরিচালক
মোঃ লিটন হোসেন)
(নির্বাহী সম্পাদক মোঃআশিকুর রহমান)
(ডাইরেক্টার মোঃ সাইফুল ইসলাম শাজাহান)
(আইন উপদেষ্টা মোঃ লতিফ হোসেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)
(আইন উপদেষ্টা শিশির কুমার পাবনা জজ কোট)
মোবাইল নাম্বার (০১৬২২-৬২৬০৯৯)
জিমেইল:sonalinewstv2023@gmail.com
www.sonalinewstv.live
অফিস ঠিকানা :ঢাকা বাংলাদেশ)