যশোরের চাঁচড়া ইউনিয়নের রুপদিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ
অনুসন্ধান প্রতিবেদন
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের রুপদিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিকাল সাড়ে চারটায় মাদ্রাসার ভিতরে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন, এক সহকারী শিক্ষক এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বলেন আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ছি, শিক্ষার্থীরা বলেন আমরা স্যারকে প্রতি মাসে কেউ ৩০০/টাকা আবার কেউ মাসে ৪০০/ টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়ি।
এই বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন এরা লেখাপড়া কম পারে তাই মাদ্রাসা ছুটির পর এক্সটা ক্লাস করাচ্ছি, শিক্ষককে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি ১০ জনকে প্রাইভেট পড়ায় কেউ টাকা দেয় আবার কেউ দেয় না,পরে ওই শিক্ষকের সামনেই শিক্ষার্থীরা বলেন না আমরা এক্সট্রা ক্লাস করছি না, টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়ছি এই কথা যখন শিক্ষার্থীরা বলেন তখন ওই সহকারী শিক্ষক বলেন আমি প্রাইভেট পড়ায় এই বিষয়ে আমাদের মাদ্রাসার সুপার জানেন বলে দ্রুত মাদ্রাসা ত্যাগ করে চলে যান।
রুপদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর ছালামের সাথে ফোনে কথা বলা হয় তিনি বলেন আমি এই বিষয়ে কিছুই জানিনা তবে আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম আগামীকাল থেকে আর প্রাইভেট পড়াবে না, তাকে প্রশ্ন করা হয় আপনার বাসা মাদ্রাসার কাছাকাছি তাহলে আপনি কি ভাবে বলছেন যে আপনি কিছুই জানেন না, তখন তিনি সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে বলেন হে আমার মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক প্রাইভেট পড়ায় আরো পড়াবে আপনারা যদি নিউজ করে কিছু করতে পারেন করেন আমার কোনো সমস্যা নেই তিনি বলেন মাদ্রাসার ভিতরে প্রাইভেট পড়ালে কি হয়, এমন কোন ক্ষতি হচ্ছে না, তিনি বলেন কষ্ট করে প্রাইভেট পড়ান তাহলে টাকা নিবে না অবশ্যই টাকা নিয়ে প্রাইভেট পড়াবে আপনারা নিউজ করে দিন।
এই বিষয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ জাকির কে, ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন ভাই আমি ঢাকাতে থাকি প্রাইভেটের বিষয়ে কিছু জানিনা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট পড়ানো নিষেধ থাকে তাহলে তারা ঠিক করেন নাই এই বিষয়ে আমার জানা ছিল না, আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম বিষয়টি নিয়ে আমি সুপারের সাথে আলোচনা করব।
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম সাইফুল আলম বলেন একটি নিয়ম ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি প্রাইভেট পড়ান তাহলে ২০০/ টাকা করে নেওয়ার নিয়ম ছিল বর্তমানে নিয়ম পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা আমি জানিনা তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে হবে এবং আমি আগামীকাল এই বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারের সাথে কথা বলবো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট পড়ানো যাবে কি যাবে না, এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। এই বিষয়ে যেনে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্বে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে রুপদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরা হবে দেখতে চোখ রাখুন।