:
আশুগঞ্জে ১০ কেজি গাঁজা ও ৩,১৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, পৃথক অভিযানে ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার।
টোলপ্লাজা এলাকায় পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান—মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ও মোটরসাইকেল জব্দ
প্রতিবেদন:
জাহাঙ্গীর আলম
বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে থানা পুলিশ। পৃথক দুইটি অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা ও ৩,১৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ৩ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে টোলপ্লাজা এলাকায় প্রথম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি পিকআপ গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১০ (দশ) কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত পিকআপ গাড়িটিও জব্দ করা হয়।
এরপর একই দিনে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে একই এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে আরও দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাদের দেহ তল্লাশি ও সাথে থাকা মোটরসাইকেল পরীক্ষা করে ৩,১৪০ (তিন হাজার একশত চল্লিশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানায় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে আশুগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা নতুন কৌশলে মাদক পরিবহন করার চেষ্টা করছিল। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়—
১। মো: সাগর মিয়া (১৯), পিতা: কালাম মিয়া, মাতা: সাফিয়া খাতুন, গ্রাম: যাত্রাগাঁও, থানা: চুনারুঘাট, জেলা: হবিগঞ্জ।
২। মো: জুয়েল (১৮), পিতা: আবুল কাশেম, মাতা: ফরিদা বেগম, গ্রাম: মজলিসপুর, ইউনিয়ন: মজলিসপুর, থানা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৩। মো: রুবেল (৩২), পিতা: মো: সুরুজ আলী, মাতা: মোছা: আছিয়া বেগম, গ্রাম: মজলিসপুর, ইউনিয়ন: মজলিসপুর, থানা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনগুলোও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় পৃথক দুইটি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আশুগঞ্জ থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন।