বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় ও স্মারকলিপি প্রদান
Reporter Name / ২২ Time View
Update : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় ও স্মারকলিপি প্রদান

মো: আরিফুল ইসলাম,
পাবনা জেলা প্রতিনিধি।

পাবনার ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের চলমান সংকট, মামলা জটিলতা এবং নদী খননকাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো: সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ এর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন পাবনা ও রিভারাইন পিপলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। রোববার প্রথম প্রহর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার নিজ বাসভবন ‘জায়ান ভবনে’ এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, আদালতে চলমান মামলার জটিলতা, নদীর প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সেতুগুলোর পুনর্নির্মাণ এবং দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা খননকাজের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো: সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ ইছামতি নদী রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং একজন নদীপ্রেমী ও আন্দোলনের সমর্থক হিসেবে ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন পাবনার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক এস. এম. মাহবুব আলমের নেতৃত্বে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন রিভারাইন পিপল পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ডা: মনছুর আলম, আন্দোলনের সদস্য খালেদ আহমেদ, কৌশিক হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আলোচনায় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালত থেকে খারিজ হয়ে যাওয়া মামলা নিম্ন আদালতে নতুনভাবে উপস্থাপন করে ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও একের পর এক আইনি জটিলতার কারণে বিশেষ করে শহর অংশের খননকাজ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

নদী উদ্ধার আন্দোলনের নেতাদের দাবি, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে অবৈধ দখলদার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহল উচ্ছেদ এবং খননকাজ ঠেকাতে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ৯৮ টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া প্রকল্পের সংশোধিত নকশা থেকে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা ১৩ টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু পুনর্নির্মাণের বিষয়টি বাদ দেওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তাঁরা আরও বলেন, মামলার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, নদীপ্রেমী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন ও রিভারাইন পিপল যৌথভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো, চলমান আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ২০২৭ সালের জুন মাসের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা এবং নদীটিকে তার স্বাভাবিক প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Popular Post
Last Update

পুরাতন খবর

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
    123
18192021222324
25262728293031
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031