রায়পুরে সাংবাদিকের ওপর মব সৃষ্টি করে হামলা, থানায় জিডি; স্থানীয় সাংবাদিকদের ক্ষোভ
রায়পুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সেখানে থাকা ভিডিও ও প্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল আহাদ জাতীয় দৈনিক ‘আমার সকাল’-এর রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং অনলাইন গণমাধ্যম ‘প্রজন্ম ২৪’-এর লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি। তাঁর অভিযোগ, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় একটি ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ২০-২৫ জনের একটি দল তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাতে আহত হলে তিনি চিকিৎসা নেন এবং বিষয়টি সাংবাদিক নেতাদের অবহিত করেন।
আব্দুল আহাদ বলেন, সাংবাদিক পরিচয় ও পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুর কাছে সহায়তা চাইতে গেলে তিনি হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এবং সেখানে সংরক্ষিত একটি ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, ঘটনার পরদিন সকালে তিনি জানতে পারেন, তাঁর মোবাইল ফোন রায়পুর থানার এএসআই মঞ্জুর হোসেনের কাছে রয়েছে। ফোনটি নিতে গেলে সেটির লক খুলে দেখতে বলা হয়। পরে তিনি ফোনটি ফেরত পান। একই দিন থানায় অভিযোগ দিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ওসি ছুটিতে থাকায় তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন।
আব্দুল আহাদের ভাষ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত একাধিক ডকুমেন্ট, তথ্য-উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় ফাইল মুছে যাওয়ায় তাঁর পেশাগত কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে এএসআই মাহবুব আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক হোসাইন বলেন, এ ঘটনা শুধু একজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য সংগ্রহের অধিকারের প্রশ্নও সামনে এনেছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতাদের মতে, একজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলা, তথ্য সংগ্রহে বাধা এবং ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রায়পুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা কাম্য নয়। সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব।
ঘটনার পর থেকে রায়পুরের সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা।