বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

পুঠিয়া-দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থানে এমপি- নজরুল ইসলাম
Reporter Name / ৬২ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

পুঠিয়া-দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থানে এমপি- নজরুল ইসলাম
দুর্গাপুর প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী জেলার প্রবেশদার পুঠিয়া উপজেলা। পুঠিয়া ও দুর্গাপুর ২ উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ৫৬ রাজশাহী-৫। কৃষি প্রধান এই ২ উপজেলার অর্থকরী ফসল ধান,পান,আলু,আমসহ কাঁচা সবজি। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০০৮ সালের নির্বাচনে আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয়ে যায় ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন। ক্ষমতাসীন আ’লীগের ১৭ বছর শত-শত নয় হাজার-হাজার একর আবাদি জমিতে হয়ে যায় অবৈধ পুকুর। হুমকির মুখে পড়ে কৃষি খাত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন সৎ, যোগ্য,সাহসী,ধর্ম ভিরু নিষ্ঠাবান এক ব্যক্তি অধ্যাপক মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কঠোর হস্তে দমন করে যাচ্ছেন সকল অন্যায় ও অপকর্মের। বিশেষ করে ফসলি জমি রক্ষার্থে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ ও মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের। অথচ একটি চক্র তাঁর সুনাম অক্ষুণ্নে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ‘সাংবাদিক সমাজের উন্নয়নে’ পুকুর খননের অনুমতি চেয়ে একটি লিখিত আবেদন দেওয়ার হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর। আর এই আবেদনে সু-স্পষ্ট ভাবে লিখা রয়েছে “বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হলো” অধ্যাপক নজরুল ইসলাম,সংসদ সদস্য, ৫৬ রাজশাহী-৫। অনুমতির সুপারিশ নয়।

আবেদনের এই কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিকরা বলছেন,কাউকে পুকুর খনন করতে দেওয়ার জন্য আবেদন করা সাংবাদিকদের কাজ নয়। প্রশাসনকে ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণই এর উদ্দেশ্য।

বর্তমান দুর্গাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি কুরবান আলী ও সাংবাদিক সমাজের সভাপতি ইসমাইল হোসেন নবী এবং উভয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবলু। তারাই মুশিফিকুর রহমান ও কামাল হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে দুটি মৌজায় ১৭ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করতে দেওয়ার জন্য গত বুধবার (৬ মে) ইউএনওর কাছে আবেদন করেছেন।

লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমরা অবগত আছি যে, দুর্গাপুর উপজেলাধীন ৭ নম্বর জয়নগর ইউনিয়নের অন্তর্গত পরিলা এবং জয়নগর মৌজায় অনাবাদী পতিত জমি রয়েছে, যা স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে মুশফিকুর রহমান ও কামাল হোসেন লিজ গ্রহণ করেছেন। পতিত জমিগুলো পুকুর হিসেবে খনন করা হলে এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, মাছ চাষের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিক সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
অথচো, পারিলা মোজার জমি তিন ফসলি এবং ভিটা যে ভিটাতে অর্থকারি ফসল পানবরজ রয়েছে। এই ভিটা পুকুরে না দেওয়ায় পানবরজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি অর্থ ও ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছিল।

সরেজমিনে জানা যায়, বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ নজরুল ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে অবৈধ পুকুর খনন জিরো টলারেন্স নীতি অটোল রয়েছেন।

সভাপতি কোরবান আলী বলেন, ‘আমাদের প্রেসক্লাবের ভবনটা আছে, কিন্তু দরজা-জানালা নাই। ভালো টয়লেট নাই। পুকুর দুটি খনন করা গেলে আমরা এসব করতে পারব।’

এ বিষয়ে মুঠো ফোনে কথা হয়, অধ্যাপক মোঃ নজরুল ইসলাম,সংসদ সদস্য, রাজশাহী-৫ তিনি বলেন, আমি এবং আমাদের সরকার ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের বিপক্ষে অবস্থান করছি। দুর্গাপুরের কিছু সাংবাদিক বেশ কিছু দিন থেকে পতিত জমিতে পুকুর খননের অনুমতির সুপারিশ নিতে আমার কাছে আসতে থাকে। সর্বশেষ,আমি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছি। আমি কিন্তু অনুমতি দিইনি।

দুর্গাপুরের ইউএনও মাশতুরা আমিনা বলেন, ‘যারা জমির মালিক তারা কিন্তু আবেদন করেননি। দুজন ইজারা গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। তারা এই আবেদন করতে পারেন না। পতিত জমি উল্লেখ করে তারা পুকুর খনন করতে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এমপি মহোদয় তদন্তের জন্য সুপারিশ করেছেন, অনুমতির জন্য সুপারিশ করেন নাই। তবে পুকুর খনন করতে দেওয়ার সুযোগ নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Popular Post
Last Update

পুরাতন খবর

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
    123
18192021222324
25262728293031
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031