খুপরি ঘরে কাটছে দিন, নেই ঈদের আনন্দ: এতিম শামিমার মলিন মুখে হাসি ফোটাবে কে?

খুপরি ঘরে কাটছে দিন, নেই ঈদের আনন্দ: এতিম শামিমার মলিন মুখে হাসি ফোটাবে কে?

চারিদিকে ঈদের আনন্দ, ঘরে ঘরে নতুন পোশাক আর সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। কিন্তু এই উৎসবের আবহেও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে মণিরামপুর উপজেলার এক নিভৃত পল্লীর ছোট্ট শিশু শামিমার ঘরে। পিতৃহীন এই শিশুর জীবনে ঈদ মানেই যেন একরাশ দীর্ঘশ্বাস আর অভাবের সাথে লড়াই।

কয়েক বছর আগে স্ট্রোকের কারণে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান শামিমার বাবা আজগার আলী। তিনি পেশায় একজন ভ্যান চালক ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারটি। বিধবা মা দুই মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট্ট জরাজীর্ণ খুপরি ঘরে (ছুবড়ি ঘর) কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেন।

কিন্তু ভাগ্য যেন বারবারই তাদের সাথে নিষ্ঠুর পরিহাস করছে। গত বছর শামিমার বড় বোনও না ফেরার দেশে চলে যায়। বাবার পর বড় বোনকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন শোকের কালো মেঘ। জরাজীর্ণ সেই ঘরে এখন কেবল মা আর ছোট্ট শামিমার বসবাস।

সংসারে আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস নেই। কোনোমতে বেঁচে থাকার তাগিদে ঘরের এক কোণে মাত্র ৫০০ টাকার মালামাল নিয়ে একটি ক্ষুদ্র দোকান দিয়েছেন শামিমার মা। সেই দোকানের সামান্য আয়ে দুবেলা অন্ন সংস্থান করাই যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে মেয়ের জন্য ঈদের নতুন জামা কিংবা একটু ভালো খাবার কেনা তো কল্পনাতীত।

জীবনযুদ্ধের এই কঠিন বাস্তবতায় শামিমার শৈশব আজ ম্লান। যেখানে সমবয়সীরা ঈদের আনন্দে মেতে উঠবে, সেখানে শামিমার চোখে পানি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে প্রশ্ন— এই ঈদে কি শামিমার মুখে একটু হাসি ফুটবে না? কেউ কি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন এই অসহায় পরিবারটির দিকে?

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Our Like Page