কুড়িগ্রামে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ব্যাহত জরুরি সেবা ও কৃষিকাজ
মোঃ এনামুল হক বিপ্লব
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে তীব্র জ্বালানি সংকটে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে জরুরি সেবা, কৃষিকাজ ও পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আজ সকালে রাজারহাট-তিস্তা সড়কের অদ্বিতা সুধি কানন ফিলিং স্টেশনসহ উপজেলার দু’টি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, আজ ভোর থেকেই মোটরসাইকেল চালক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা পেট্রোল ও ডিজেল সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সকাল ১০টার দিকে তেল সরবরাহ শুরু হলে মুহূর্তেই ভিড় বেড়ে যায়। তবে সরবরাহ সীমিত থাকায় অনেকেই খালি হাতে ফিরে যান। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলাটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। চলমান কৃষি মৌসুমে সেচ কার্যক্রমের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল শ্যালো মেশিন ও সেচ যন্ত্রগুলো তেল সংকটে বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোও পড়েছে বিপাকে। তেল সংকটের কারণে জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজারহাট বাজারের ব্যবসায়ী অপু বলেন, ব্যবসা ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সময় ও অর্থ দুই-ই নষ্ট হচ্ছে। পরিবহন চালকদের অভিযোগ, তেল না পেয়ে খালি গাড়ি নিয়েই চলে যেতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলেন, চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ অর্ধেকেরও কম। একরাম ফিলিং স্টেশনের মালিক সাদেকুল হক নুরু এবং মেসার্স অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশনের মালিক বুলু সরকার বলেন, প্রতিদিন যেখানে ৫ থেকে ৬ হাজার লিটার জ্বালানি প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার লিটার। এতে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।