নিষিদ্ধ পল্লীর মাসির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় প্রতারক সাংবাদিক হাসানের বাবা অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ,,
ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বান্দরবান প্রতিনিধি,,,
প্রতারক তথাকথিত সাংবাদিক হাসানের প্রতারনার মাধ্যমে রোজগার করা টাকা ভোগ করার জন্য তারই বাবা ছগির হেসেন নিষিদ্ধ পল্লীর মাসির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন বলে জানান
ভুক্তভোগিরা। অর্থাৎ কেউ অভিযোগ করলে অথবা তার বাবার নিকট বলতে আসলে মক্কিরাণীদের মত ঝাপটে ধরেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ৬ নং রুপসী পাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছগীর হোসেন তার ছেলে হাসানের প্রতারনার টাকায় সংসার চালায়। জানা যায় ছগীর হোসেনের ছেলে হাসান নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অবহেলিত জনপদে দাপিয়ে বেড়ায় এবং মানুষের দোষ-গুণ খুজে বেড়ায় এবং দুর্বলতার সু্যোগ নিয়ে মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করে, আচর্যের বিষয় হলো ভুক্তভুগিরা তথাকথিত সাংবাদিক হাসানের বিষয়ে তার বাবা ছগির কে বলতে গেলে ছগির নিশিদ্ধ পল্লীর মাসিদের মত আচরন করে।
ভুক্তভোগীরা জানায় কথিত সাংবাদিক হাছান বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষ কে বিশ্বাস দেখিয়ে টাকা এনে তার বাবার হাতে তুলে দেয়।
আর তার বাবা সে টাকায় অভাবের সংসার চালায় বলে পুত্রকে প্রশ্রয় দেয়। পুত্রের প্রতারণার নালিশ করলে উল্টো ভুক্তভোগীদের দিকে তেড়ে আসে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
তাদের উভয়ের অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, মামলা বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি সহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ।
গত ২০/০৩/২০২৬ ইং তারিখে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ৭ জন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেছেন।
একই দিনে পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে লেখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ কারীরা জানান, চাঁদাবাজ তথাকথিত সাংবাদিক হাসান এবং তার পিতার (ছগিরের) আতংকে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ।
এদিকে সাংবাদিকতার পেশা’কে পুঁজি করে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী কায়দায় নিরীহ সাধারণ মানুষ কে জিম্মি করে পিতা পুত্রের চাঁদাবাজি – ধান্দাবাজিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকা জুড়ে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকা জুড়ে।
অভিযোগকারীরা হলেন:
(১) সোহরাব হোসেন (৪৭) পিতা মৃত রুস্তম আলী ।
(২) আনোয়ার হোসেন (৬১) পিতা মৃত নুর মোহাম্মদ।
(৩) আব্দুল করিম (৫৩) পিতা মৃত ইলিয়াস মিয়া।
(৪) আবুল হোসেন (৫৬)।
(৫) মোঃ আব্দুল্লাহ ২৫ পিতা মৃত আব্দুর রহমান।
(৬) পিংকিনু মার্মা ।
(৭) বেলাল হোসেন , সহ আরো অনেকে।
ভুক্তভোগী নারী পিংকিনু মার্মা বাদী হয়ে লামা থানার জিডি নাম্বার ৭১ তারিখ ০২/০৭/২০২৫ ইং রুজু করেন ভুক্তভোগী নারী পিংকিনু মার্মা অভিযোগে উল্লেখ করেন। গত ২৭/০৪/২০২৫ ইং তারিখে অভিযুক্ত তথাকথিত সাংবাদিক হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন; পোস্টে লেখা ছিল: (আওয়ামী লীগ নেতাদের, রাতের খাবার ছিলো আওয়ামী লীগ নেত্রী পিংকি আপা। একটু অপেক্ষা..)
এরকম লেখা ছিল পোস্টে।
এরপর গত ১১/০৬/২০২৫ ইং তারিখে আমিনুলের চায়ের দোকানে জায়গা জমির কাগজপত্র দেখাচ্ছিলেন স্থানীয় একজন গ্রাম পুলিশ কে, ভুক্তভোগী নারীর অগোচরে অভিযুক্ত তথাকথিত সাংবাদিক হাসান ছবি ক্যামেরায় ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে অর্থাৎ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
যার ভিতরে লুকিয়ে ছিলো তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্থাৎ তথাকথিত সাংবাদিকরা সুদূর বরিশাল থেকে উদবাস্তু হয়ে বান্দরবানের লামায় এসে পিংকিনু মার্মার দাদার জায়গা অবৈধভাবে দখল করে মালিক বনে গেছে।
এখন পিংকিনু মার্মা তার অধিকার ফিরে পেতে চাইলেই শুরু হয় বিপত্তি।
তারা (রূপসী পাড়ার) অনেকেই পিংকিনু মার্মার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালায়।
এমনকি যারা পিংকিনু মার্মাকে সহযোগিতা করছে তাদেরকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ।
ভুক্তভোগী নারী আরো বলেন অভিযুক্ত হাসান নিজেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে থাকে:
কখনো সাংবাদিক। কখনো মানবাধিকার কর্মী।
অভিযুক্ত তথাকথিত সাংবাদিক হাসানের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন পিংকিনু মার্মা ।
এরপর গত ১০/০৯/২০২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দায়ের করেন লামা থানার তদন্তকারী অফিসার।
(এ এসআই মোঃ এমরান ভুঁইয়া,)
তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন :
লামা থানায় প্রাপ্ত জিডি ৭১ বাদীর উল্লেখিত ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যায় মর্মে উল্লেখ করে । প্রসিকেশন নাম্বর ৩৮/২০২৫ দ্বারা ৫০৬(২) ফ্যানেল কোট দায়ের করেন। তদন্তকারী অফিসার মোঃ এমরান ভুঁইয়া।
এ ছাড়াও তথাকথিত সাংবাদিক হাসান এর বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত তথাকথিত সাংবাদিক হাসানের অপকর্মের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন পেশাগত সাংবাদিক মহল ।
লামা প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক কামরুজ্জামান বলেন সাংবাদিকতা হলো মহান পেশা । এই পেশাকে পুঁজি করে কেউ অন্যায় অনিয়ম করলে কোনরকম ছাড় দেয়া হবে না।
উক্ত ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক হাসান কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
এদিকে দ্বিতীয় অভিযুক্ত ব্যক্তি অর্থাৎ সাংবাদিক হাসান এর পিতা ছগীর হোসেন এর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেছেন ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ উবয় পক্ষ কে নোটিশ করা হবে।
দায়ী ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।