লোডশেডিংয়ের দাপটে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা, বিপর্যস্ত জনজীবন
কাজী আশরাফুল আলম
সারাদেশে শুরু হয়েছে উচ্চ
মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে লোডশেডিংয়ের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মানসিক প্রস্তুতি।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজবাড়ী জেলা-তেও লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। সন্ধ্যা ও রাতের সময়, যা পড়াশোনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, সেই সময়েই ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় আলো ও ফ্যানের অভাবে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে পরীক্ষার আগে তাদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। অভিভাবকরাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতের কার্যক্রম এবং ঘরোয়া কাজকর্ম সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, আর গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, অন্তত পরীক্ষার সময়টুকু যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের পরীক্ষা প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, এর নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।