
দেশব্যাপী একযোগে “নতুন কুড়ি স্পোর্টস”-এর শুভ উদ্বোধন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
জাহাঙ্গীর আলম
জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী একযোগে “নতুন কুড়ি স্পোর্টস”-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ০২ মে ২০২৬ তারিখে এ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়, যার কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, এমপি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় পেশা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, “যুব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ক্রীড়ার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সহনশীলতার মতো গুণাবলি বিকশিত হয়।”
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল—
“ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা।”
এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ক্রীড়া প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং স্থানীয় তরুণ ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন খেলাধুলার প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তরুণদের উচ্ছ্বাস ও উপস্থিত দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠক এবং শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ ঘটে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মাঝে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতীকী খেলার উদ্বোধন করা হয় এবং ভবিষ্যতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
একটি সুস্থ, শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে “নতুন কুড়ি স্পোর্টস”-এর এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।