দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদের মানুষ একটা নামে ভয় পেত — আলাউদ্দিন মানিক। আটকের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সাধারণ মানুষ।
চাঁদাবাজ আলাউদ্দিন মানিক তার ভাই হাইড্রোলিক বিল্লাল, সুমন আর রোমানকে নিয়ে গঠিত মানিক চক্র এলাকায় একটা ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল, যেটা ভাঙার সাহস কেউ দেখাতে পারেনি।
‘শফি মটরস’ নামের গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান থেকে মাল না কিনলে বাস কাউন্টারে হামলা হতো। ব্যবসায়ী নুর আলম আজাদকে মারধরের পর তার শরীরে গরম চা ঢেলে দেওয়া হয়েছিল — এটুকু বললেই বোঝা যায়, এরা কতটা নির্মম ছিল।
মামলা হয়েছে, জিডি হয়েছে — তবু থামেনি। পুরো এলাকা চুপ করে ছিল।
গত ২৭ এপ্রিল দৈনিক ইনকিলাবে ‘মানিক চক্রের কৌশলী চাঁদাবাজি’ নিয়ে প্রতিবেদন বের হওয়ার পর মানিক পালিয়ে যায়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সায়েদাবাদে তার নিজের বাসা ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করে। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন — মানিক ঢাকা মহানগর পুলিশের তৈরি চাঁ*দা*বা*জ*দের তালিকায়ও ছিল।
এদিকে একই রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় র্যাব-২ একযোগে পাঁচটি দল নামিয়ে ব্লকরেইড পরিচালনা করে। শ্যামলীতে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে রিকশায় পালানোর চেষ্টা করা পাঁচ মা*দ*ক কারবারিকে আটক করা হয়। মোহাম্মদপুরে পাঁচটি চা*পা*তি*সহ দুই ছি*ন*তা*ই*কারী, আদাবরে দ*স্যু*তা*র প্রস্তুতিকালে আরও একজন ধরা পড়ে। বসীলা গার্ডেন সিটি থেকে উদ্ধার হয় একটি ওয়ান শুটারগান ও চার রাউন্ড গুলি।
আলাদা অভিযানে আদাবর থেকে গ্রে*ফ*তা*র হয়েছে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ছি*ন*তা*ই*কারী রুবেল ওরফে ‘পাংখা রুবেল’ — যার বিরুদ্ধে ছি*ন*তা*ই, দ*স্যু*তা, চাঁ*দা*বা*জি ও মা*দ*ক মিলিয়ে মোট নয়টি মামলা রয়েছে।
এলাকার মানুষ অনেকদিন ধরে যা চাইছিল, অবশেষে সেটা হলো। প্রশ্ন হলো — এদের বিচার বিচার কতটা দ্রুত হবে, নাকি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জামিন নিয়ে আবারো ফিরবে সাবেক পেশায়।
আবু জাহেদ ইমন