বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

যশোর সদর উপজেলার গোয়ালদাহ কল্যাণদাহ সর: প্রাথ: বিদ্যালয় নিয়ম অমান্য করে স্কুল বন্ধ করে যাওয়ার অভিযোগ
Reporter Name / ৯৩ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার গোয়ালদাহ কল্যাণদাহ সর: প্রাথ: বিদ্যালয় নিয়ম অমান্য করে স্কুল বন্ধ করে যাওয়ার অভিযোগ

যশোর প্রতিনিধি :
মোঃ রফিকুল ইসলাম সবুজ

যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের গোয়ালদাহ কল্যাণদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ জয়নব খাতুন ও সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেনসহ সকল শিক্ষক ৩,৪০ মিনিটের মধ্যে স্কুল বন্ধ করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল বন্ধ করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকা জয়নব খাতুন এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেনসহ সকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এই দুই জনের জোকসাজেসে অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরা ৩,৩০ মিনিট থেকে ৩,৪০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে জাতীয় পতাকা নামিয়ে স্কুল বন্ধ করে চলে যান।

অনুসন্ধানের সাংবাদিকরা কিছু দিন ধরে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছেন। অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী গোয়ালদাহ কল্যাণদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এবং সহকারী শিক্ষকরা সরকারি নিয়ম অমান্য করে জাতীয় পতাকা নামিয়ে স্কুল বন্ধ করে দেন।

সাংবাদিকরা ওই এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন তারা বলেন এই স্কুল সরকারি নিয়মের আগেই ছাত্র ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে সকল শিক্ষকরা চলে যায়।

তারা বলেন আমাদের তো এতো কিছু জানা ছিল না, আপনারা বিষয়টি আমাদের জানানোর পর বুঝতে পারছি যে, সব শিক্ষক সরকারি নিয়মের আগেই স্কুল বন্ধ করে দেয়, তারা আরো বলেন আপনাদের কারণেই স্কুল বন্ধ করার বিষয়টি জানতে পারলাম, সাংবাদিকদের বলেন আপনারা সঠিক একটা কাজ করে দিলেন এখন থেকে আমরা খেয়াল রাখবো যেহেতু আমাদের ছেলে মেয়েরাই এই খানে পড়ালেখা করে, তারা বলেন এর পরে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটায় তাহলে আপনাদের সাথে সাথে জানানো হবে।

সাংবাদিকরা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপরে নজর রেখেছিলেন প্রধান শিক্ষিকাসহ সকল সহকারী শিক্ষকরা কখনোই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন না,তারা তাদের ইচ্ছা মতো স্কুল বন্ধ করে দিয়ে চলে যান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে।

দোয়ালদাহ কল্যাণদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ জয়নব খাতুনকে ফোন দেওয়া হয় তিনি বলেন আমি পনে তিনটার দিকে স্কুল থেকে আমার নিজের কাজের জন্য চলে আসছি, আমি আসার সময় আমাদের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়ে আসছি তাকে আমার বলা ছিল সঠিক সময়ে স্কুল বন্ধ করে যেতে কিন্তু তারা সবাই যে আগেই স্কুল বন্ধ করে চলে গেছেন এই বিষয়ে আপনারা যাওয়ার পরে সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেন আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছে। তিনি বলেন আমি সবার সাথে কথা বলেছি তারা বলছেন যে তারা পনে চারটার স্কুল থেকে চলে গেছেন, এই প্রথম আমাদের একটা ভুল হয়েছে এর পরে আর হবে না।

সাংবাদিকরা প্রধান শিক্ষিকা কে, প্রশ্ন করেন শুধু আজকেই নয় এর আগেও একাধিকবার স্কুল বন্ধ করে চলে গেছেন তিনি বলেন না এই প্রথম এই ঘটনা ঘটেছে যখন সাংবাদিকরা বলেন আপনি এবং আপনার সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেন মিলে এই ধরনের কাজ করছেন তখন তিনি বলেন আমাদের ভুল হয়ে গেছে এই বিষয়ে কোনো নিউজ করবেন না এই ধরনের আর কোন দিন ভুল হবে না আমরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবো।

সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেনকে এই বিষয়ে নিয়ে ফোনে কথা বলা হয় তিনি বলেন না প্রধান শিক্ষিকা এবং অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরা এক সাথে বের হয়ে চলে গেছে আমি পরে বের হচ্ছি তখন আপনারা এসেছেন আরেক প্রশ্নে বলেন না আমাকে প্রধান শিক্ষিকা কিছুই বলে যায়নি এইটা উনি মিথ্যা কথা বলেছেন।

জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার জি এম আলমগীর কবির বলেন এই ধরনের কোন সুযোগ নেই, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে, শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল ত্যাগ করতে পারবেন না, যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ভাবে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমানকে ফোন দেওয়া হয় তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সদর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ সোহরাব হোসাইন বলেন আমাদের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে স্কুলে থাকতে হবে নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল থেকে যেতে পারবেন না, যদি কোন স্কুল এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই ভুল করেছেন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে, যদি কোন স্কুল নিয়ম অমান্য করে স্কুল বন্ধ করে চলে যায় তাহলে ওই স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ভাবে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

গোয়ালদাহ কল্যাণদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেন ও প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আজ দ্বিতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Popular Post
Last Update

পুরাতন খবর

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
    123
18192021222324
25262728293031
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031