বান্দরবানের লামা বাজারে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি দোকান দখলের অভিযোগ উঠেছে,
তারেকুল ইসলাম শাফিন
চকরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি)
যে বিষয়টা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জানা যায়, বাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘মাবুত স্টোর’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটির দিনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় পক্ষ আবদুল মাবুদ গং পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানের তালা ভেঙে দখল নেয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লামা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একটি পূর্বের আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গত ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত করে এবং আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। অর্থাৎ, উভয় পক্ষকে আগের অবস্থানেই থাকতে বলা হয়েছিল।
এদিকে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ করেন, আদালতের এই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ২৬ মার্চ সকালে প্রতিপক্ষ পুলিশের সহায়তায় দোকানটি দখল করে নেয়। তিনি দাবি করেন, আদালতের আদেশের কপি দেখানো হলেও পুলিশ তা গুরুত্ব দেয়নি এবং বরং তাদের সরিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে দখলে সহযোগিতা করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে লামা বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের মতে, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই আদালতের নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা দাবি করেন, তারা মূলত অন্য একটি মামলার তদন্তের কাজে সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। যদিও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন দখল ঠেকানো হয়নি—এ বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
আইনজীবীদের মতে, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় কোনো পক্ষকে দখল নিতে সহায়তা করা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং আদালতের আদেশ লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।