বান্দরবানে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ‘মামলা বাণিজ্য’: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ

বান্দরবানে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ‘মামলা বাণিজ্য’: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ

ক্রাইম রিপোর্টার: মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলার ৬নং রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ‘মামলা বাণিজ্যের’ একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্বে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ অর্থের বিনিময়ে পাহাড়ি ম্রো (মুরুং) সম্প্রদায়ের বিভিন্ন এলাকায়—ম্রোংঝিরি, চিতাঝিরি ও লেবুঝিরি—প্রায় ৫০০ একর জমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন চেয়ারম্যান শাহ আলম ও তার ভাই শাখাওয়াত।

এছাড়া এক রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় মহিলা মেম্বার খালেদা বেগম বাদী হয়ে লামা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, পিংকিনু মার্মা নামে এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তার পৈতৃক সম্পত্তির কাগজপত্র, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ দীর্ঘদিন ধরে না পেয়ে তিনি চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে গেলে নানা অজুহাতে টালবাহানা করা হয়। এমনকি তার সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম দায়িত্বে অবহেলার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি ভুক্তভোগীকে সনদ না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি।
ভুক্তভোগী পিংকিনু মার্মা গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ৮ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে এবং ১৫ মার্চ লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে ভুক্তভোগী অবশ্যই তার প্রাপ্য সনদ পাবেন।

এদিকে দীর্ঘদিনেও সনদ না পাওয়ায় পিংকিনু মার্মা তার পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সহযোগিতা চাইলে কেউ এগিয়ে আসছেন না।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শাহ আলমের অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। বিস্তারিত আসছে পরবর্তী পর্বে।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Our Like Page