সাভারে অবৈধ কয়েল কারখানা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হুমকির মুখে সাংবাদিকরা ‎


‎স্টাফ রিপোর্টার মোঃ জাহিদুল ইসলাম

‎সাভারের বলিয়াপুরের কুন্ডা এলাকার দাসপাড়া নামাপাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ নাহিদ নামের এক ব্যক্তি নিজ ক্ষমতার জোরে অবৈধভাবে একটি কয়েল কারখানা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ওই কারখানার মালিকপক্ষের লোকজনের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে জানিয়েছেন সংবাদকর্মীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি অবৈধ কয়েল কারখানা পরিচালিত হয়ে আসছে। কারখানাটির কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং এলাকাবাসী বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যান চারজন সংবাদকর্মী।
‎সংবাদকর্মীরা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কারখানার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের আগে কিছু বলতেই ‘এখানে সাংবাদিকদের কাজ কী?’ বলে প্রশ্ন তোলেন। সংবাদকর্মীরা জানতে চাইলে কারখানার মালিকপক্ষের এক ব্যক্তি বলেন, “মালিক বাহিরে থাকে, আপনাদের কথার কোন উত্তর আমি দিতে পারবো না।” পরে মোহাম্মদ নাহিদ নামে ওই ব্যক্তি নিজেই এসে বলেন, “আমি এই কয়েল কারখানা যেরকম খুশি সেরকম চালাবো। পুলিশ-প্রশাসন-সাংবাদিক যে আসুক না কেন, কারো তোয়াক্কা করি না।” একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “যেই আসবে অনেক জ্বালিয়েছে দেখে নেব” এবং মৃত্যুর হুমকি দেন। এসময় তিনি আরও বলেন, “যা পারেন তাই করেন গা” বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
‎গত ২৯ অক্টোবর সাভারের কোন্ডা দাসপাড়া এলাকায় একাধিক বৈধ অনুমোদনবিহীন নকল মশার কয়েল কারখানায় র্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে একটি কারখানাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও বিপুল পরিমাণ নকল ও নিম্নমানের কয়েল জব্দ ও ধ্বংস করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব কারখানায় বাজারে জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েল নকল করা হয়, যাতে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
‎সাভারে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হুমকির ঘটনা নতুন নয়। গত মে মাসে সাভারের একটি সিরামিকস কারখানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক আখলাকুল রহমান আকাশ হামলার শিকার হন এবং অপর এক সাংবাদিক মো. ওমর ফারুককে কারখানার মালিক জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। সেসময় সাভার প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন করে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়।
‎ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার (ঢাকা জেলা প্রতিনিধি, আমার বার্তা পত্রিকা) জানান, সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়ে নিজেদের প্রাণহুমির শিকার হতে হয়েছে। তিনি ও অপর তিন সংবাদকর্মী ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
‎তিনি প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, “আইনের চোখকে যেন কেউ ফাঁকি দিতে না পারে। আমরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Our Like Page