শিবগঞ্জ পৌরসভার রাস্তা নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
নাজমুল হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন দৌলতপুর মোল্লাপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মডেল স্কুল থেকে মোল্লাপাড়া মোড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা ঢালাই কাজে নিম্নমানের বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের মিশ্রণ ৩ ভাগে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ৪ থেকে ৫ ভাগে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি অল্প দিনেই ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের দিকে রাস্তার ঢালু থাকার কথা থাকলেও, সরেজমিনে দেখা গেছে ড্রেনের বিপরীত দিকে প্রায় ২ ইঞ্চি ঢালু রাখা হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমে থেকে দ্রুত ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাজ শুরুর পর থেকেই তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে উল্টো দুর্ব্যবহার ও বকাঝকার শিকার হচ্ছেন। তারা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূনা ট্রেডার্স মার্কো ইন্টারন্যাশনাল-এর মালিক মো. ফিরোজের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে মোট ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫২ টাকা ৪৮ পয়সা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার দৈর্ঘ্য ৭ হাজার ৭৮০ মিটার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রেনের বিপরীত দিকে ঢালু থাকায় পানি জমে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পৌরবাসীর মতে, শিবগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পৌর এলাকায় এ ধরনের নিম্নমানের কাজ অত্যন্ত দুঃখজনক। যেহেতু প্রকল্পটি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
এ বিষয়ে রাস্তার হেড মিস্ত্রি মো. রায়হান আলী বলেন,
“রাস্তার কাজ শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখেই করা হচ্ছে, রাস্তা ঢালু নেই।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. শিপন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন,
“যা ইচ্ছা লেখেন।”
এদিকে ঠিকাদার মো. ফিরোজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে ইউজিএলপি ও এলজিইডি প্রকৌশলীদের মধ্যে দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা গেছে।
ইউজিএলপি প্রকল্পের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিউল আলম বলেন,
“অভিযোগ পেয়েছি। ঠিকাদার ফিরোজকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন,
“আমি সদ্য এই উপজেলায় যোগদান করেছি। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত